সিরিয়ার সংবিধান রচনা কমিটি গঠন

Nov 3,2019 06:48am আন্তর্জাতিক Editor

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ০৩ নভেম্বর : নতুন সংবিধান প্রণয়ন করছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া। এ জন্য ৪৫ সদস্যের একটি কার্যকর কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংবিধানের খসড়া রচনায় আগামীকাল সোমবার থেকেই কাজ শুরু করবে কমিটি। নতুন সংবিধান প্রণয়ন করছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া। এ জন্য ৪৫ সদস্যের একটি কার্যকর কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংবিধানের খসড়া রচনায় আগামীকাল সোমবার থেকেই কাজ শুরু করবে কমিটি।

৮ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে সরকার, বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান প্রণয়নের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ। একে শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে সংস্থার মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, সিরিয়া এখন সত্যিকারের আইনের শাসনের পথে উঠেছে।

এএফপি জানায়, সিরিয়ার নতুন সংবিধান তৈরির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুক্রবার পর্যন্ত পরপর দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক আয়োজনে মধ্যস্থতা করেন সিরিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেইর পেডারসন।

শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, ‘দুদিনের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।’ পেডারসন জানান, জেনেভার জাতিসংঘ দফতরের ওই বৈঠকে সরকারি, বিরোধীদলীয় ও সুশীল সমাজের অন্তত ১৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। সংবিধান সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা নিয়ে কথা বলেন তারা। বৈঠকে সংবিধান প্রণয়নের কমিটিও গঠন করা হয়।

সংবিধান প্রণয়নে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করতে গত বছরের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো কাজখাস্তানে বৈঠকে বসে সিরিয়ার যুদ্ধরত পক্ষগুলো ও মধ্যস্থতাকারীরা। কিন্তু বৈঠক ব্যর্থ হয়।

পরের মাসেই জেনেভায় ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন। সেই সময় সিরিয়াবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টাফান দ্য মিসতুরা সংবিধান প্রণয়নে একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক’ কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।

এ কমিটিতে রাশিয়া, ইরান ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা থাকবেন। কিন্তু সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালেদ আল মুয়াল্লিম বলেন, সিরিয়ার সংবিধান তৈরিতে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।

এরপর প্রায় এক বছরের মাথায় গত বুধবার দু’দিনব্যাপী বৈঠক শুরু হয়। সিরিয়ার সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম বৈঠক উপলক্ষে জাভেদ জারিফ জেনেভা শহর সফর করেন। রাশিয়া ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এছাড়া জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেইর পেডারসনের সঙ্গেও বৈঠক করেন। জারিফ ওই বৈঠকের প্রশংসা করে বলেন, কয়েক বৎসরের বিপর্যয়কর যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন সত্যিকারের আইনের শাসনের পথে হাঁটা শুরু করল।

এদিকে তুর্কি সীমান্তে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহরে আকাশ ও স্থলপথে যৌথ টহল শুরু করেছে তুরস্ক ও রাশিয়া। ওই অঞ্চল থেকে কুর্দিদের সরিয়ে সেখানে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠায় দুই দেশের চুক্তির পর শুক্রবার ওই অঞ্চলে রাশিয়ার প্রায় ৩০০ সেনা ও ২০টি সাঁজোয়া যান নিয়ে তুর্কি বাহিনীর সঙ্গে স্থল টহল দেয়া শুরু করে তারা। খবর আলজাজিরার।

৯ অক্টোবর তুর্কি সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা থেকে সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহীদের উৎখাতে অভিযান শুরু করে তুরস্ক। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তুরস্কের সাঁজোয়া যান নিয়ে রুশ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তুর্কি বাহিনী।

ওই মহড়ার বিষয় নিশ্চিত করে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের টুইট বার্তায় ছবি পোস্ট করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, তুরস্কের চারটি সাঁজোয় যান টহল দিচ্ছে। আর সেনারা মানচিত্র পর্যালোচনা করছে।

অন্যদিকে তুরস্কের হাতে বন্দি আইএস জঙ্গিদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেয়মান সোইলু জানিয়েছেন। শনিবার ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান। তিনি আরও বলেন, আইএসের আটক সদস্যদের বিষয়ে ইউরোপ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এটি দায়িত্বহীনতা।’

আইএসের বন্দিদের বিষয়টি মোকাবেলা করার জন্য ইউরোপ তুরস্ককে একা ছেড়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা আটক দায়েশ সদস্যদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেব।’

(সন্ধি নিউজ/ডেস্ক/ওএইচ)

Developed by e-Business Soft Solution