বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে নারী হত্যায় ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Jul 21,2019 06:47am আইন ও আদালত Editor

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২১ জুলাই : সন্তানের ভর্তির খোঁজ নিতে গিয়ে রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। শনিবার রাতে বাড্ডা থানায় নিহতের ভাগিনা নাসিরউদ্দিন এ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় বলা হয়েছে, অতর্কিতভাবে ওই নারীকে স্কুলের অভিভাবক, উৎসুক জনতাসহ অনেকে গণপিটুনি দেন। এতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি জড়িত।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতের লাশ শনাক্ত করেন তার ভাগিনা ও বোন রেহানা।

তারা জানান, নিহতের নাম তসলিমা বেগম রেনু। তার ১১ বছরের এক ছেলে ও ৪ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। আড়াই বছর আগে তসলিম উদ্দিনের সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এর পর থেকে ছেলেমেয়েকে নিয়ে মহাখালী ওয়্যারলেস এলাকায় একটি বাড়িতে থাকতেন তিনি।

নিহতের ভাগিনা নাসিরউদ্দিন বলেন, রেনু মানসিক রোগে ভুগছিলেন। চার বছর বয়সী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য তিনি এক স্কুল থেকে আরেক স্কুলে ঘুরছিলেন। এ কারণেই হয়তো তিনি বাড্ডার ওই স্কুলটিতে যান।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রেনু তার মেয়েকে ভর্তি করার জন্য স্কুলে যান। কিন্তু মানসিক অসুস্থতার কারণে তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। এ জন্য স্কুলের অনেকেই তাকে ছেলেধরা হিসেবে সন্দেহ করছিল। প্রধান শিক্ষক তার সঙ্গে কথা বলার জন্য রুমে নিয়ে যান। কিন্তু স্কুল প্রাঙ্গণে তার অস্বাভাবিকতা দেখে অনেকেই বের করে মারধর করতে চাইছিলেন। প্রধান শিক্ষক রেনুকে বাইরে বের না করলে স্কুলের কিছু অভিভাবক ও বাইরে থেকে আসা উৎসুক জনতা রুমের গেট ভেঙে তাকে ‘ছেলেধরা’ বলে মারধর করে। গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেনুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

(সন্ধি নিউজ/জেএস/ওএইচ)

Developed by e-Business Soft Solution